
একাধিক মাদক ও হত্যা মামলার আসামি আওয়ামী দোসর ও এলাকা থেকে নির্বাসিত টাইসন আসলাম জাকির খানের ডেরায়! তৃণমূলে তোলপাড়
একাধিক মাদক ও হত্যা মামলার আসামি হিসেবে অভিযুক্ত, বক্তাবলীর পূর্ব গোপালনগর এলাকায় বিতর্কিত ও স্থানীয়দের তোপের মুখে কার্যত নির্বাসিত আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি টাইসন আসলামকে এবার আলোচিত নেতা জাকির খানের সঙ্গে দেখা যাওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা যায়, টাইসন আসলাম জাকির খানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিজের বিরুদ্ধে থাকা গুরুতর অভিযোগ ও মামলার চাপ থেকে রক্ষা পেতে এবং রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া লাভের উদ্দেশ্যেই তিনি এমন তৎপরতা চালাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, টাইসন আসলামের বিরুদ্ধে প্রায় ছয়টি মাদক মামলা ও একটি হত্যা মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অতীতে বক্তাবলী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গোপালনগর এলাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রামবাসী মানববন্ধনও করেন। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে তিনি সাধারণ মানুষের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে ওঠেন। এলাকাবাসীর তীব্র প্রতিরোধের মুখে তিনি এলাকায় অবস্থান করতে না পেরে আত্মগোপনে চলে যান বলেও দাবি স্থানীয়দের।
অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একাধিকবার তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলে স্থানীয়ভাবে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তিনি পালিয়ে যান। স্থানীয়দের ভাষ্য, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত চেয়ারম্যান এর নাম ব্যবহার করে তিনি নানা অপকর্ম চালিয়ে গেছেন। সরকার পরিবর্তনের পরও তার তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে জাকির খানের সঙ্গে তার প্রকাশ্য উপস্থিতির ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশের দাবি, যদি জাকির খান টাইসন আসলামের অতীত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত না থাকেন, তবে বিষয়টি যাচাই করা উচিত। আর যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করে থাকেন, তবে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এলাকাবাসীর দাবি, টাইসন আসলামের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি এবং তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে কোনো অপরাধী রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে।