নকআউট পর্বে একের পর এক বাধা পেরিয়ে শিরোপার খুব কাছেই পৌঁছে গিয়েছিল বাংলাদেশের কিশোর ফুটবলাররা। কিন্তু শেষ বাধা আর পেরোনো হলো না। ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালের ই-টায়ারের ফাইনালে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের কাছে ৪-১ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। তাতে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ফাইনালে ওঠা আকবর হোসেন রিদনের শিষ্যদের অভিযান শেষ হলো রানার্সআপ হয়ে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) আজারবাইজানের রাজধানী বাকুর ক্রিস্টাল হলে অনুষ্ঠিত ফাইনালে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত পেরে ওঠেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। চার গোল হজমের বিপরীতে একটি গোল শোধ করতে পেরেছে তারা। ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) নিজেদের আনুষ্ঠানিক ফেসবুক পেজে ৪-১ ব্যবধানে হারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
তবে ফাইনালে বড় ব্যবধানে হারলেও নকআউট পর্বে বাংলাদেশের পথচলা ছিল দারুণ। গ্রুপ পর্বে প্রত্যাশামতো খেলতে না পারা দলটি শেষ বত্রিশে সিশেলসকে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে পরের রাউন্ডে ওঠে। এরপর শেষ ষোলোয় সিঙ্গাপুরের বিপক্ষেও নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় বাংলাদেশ।
কোয়ার্টার ফাইনালে আরও দাপুটে পারফরম্যান্স দেখায় আকবর হোসেন রিদনের দল। ইউরোপের দেশ মন্টেনেগ্রোকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয় তারা। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করেন পাভেল হাসান। অন্য দুটি গোল করেন মোহাম্মদ বায়েজিদ ও শিবাক কুমার মালি।
এরপর বৃহস্পতিবার সেমিফাইনালে আফ্রিকার দেশ গ্যাবনকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। ম্যাচের ১৪ মিনিটে নাঈমুর রহমান রাতুলের করা একমাত্র গোলেই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে পৌঁছে যায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। কিন্তু ফাইনালে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।
অথচ প্রতিযোগিতার গ্রুপ পর্বে পাঁচ ম্যাচের মাত্র একটিতে জিতেছিল বাংলাদেশ। ওয়েলস ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ড্র করলেও পর্তুগাল ও বুরুন্ডির কাছে হারে দলটি। শেষ ম্যাচে ফিজিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে কিছুটা স্বস্তি পায় তারা। গ্রুপে পঞ্চম হওয়ায় বাংলাদেশকে খেলতে হয় ই-টায়ারের নকআউট পর্বে।
এবারের ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালে প্রাথমিক পর্বের ফলের ভিত্তিতে দলগুলোকে ছয়টি স্তরে ভাগ করা হয়। বাংলাদেশ খেলেছে পঞ্চম স্তর বা ই-টায়ারে। ফলে এই ফাইনালটি মূল বিশ্বকাপ শিরোপার লড়াই ছিল না। মূল চ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হবে এ-টায়ারের ফাইনালে। ই-টায়ারের ফাইনাল ছিল সামগ্রিক অবস্থানের হিসাবে ১২৯তম স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। হেরে যাওয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ১৩০তম।
প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় আটজনের দল নিয়ে ২০ মিনিট করে দুই অর্ধে মোট ৪০ মিনিটের ম্যাচ খেলেছে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো। বাংলাদেশের জন্য শেষটা হতাশার হলেও নকআউটের চার বাধা পেরিয়ে নিজেদের স্তরের ফাইনালে পৌঁছানো ছিল উল্লেখযোগ্য অর্জন। শিরোপা না পেলেও নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে ফিরবে বাংলাদেশের কিশোররা।