পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া একটি বাড়িতে ডিজে পার্টির আয়োজনের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় সেখান থেকে ৮৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে পুলিশের দাবি, ওই বাড়িতে প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২টি পার্টির আয়োজন করা হতো। অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে এসব আয়োজনে অংশ নিতেন অতিথিরা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) এ তথ্য জানান ডিএমপির গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির।
ডিবির এ কর্মকর্তা জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে গিয়ে উচ্চ শব্দে গান বাজানো অবস্থায় ডিজে পার্টির আয়োজন দেখতে পান পুলিশ সদস্যরা। বাড়ির সামনে ও আশপাশে প্রায় ২২টি গাড়ি ছিল। শিসা সেবনের কারণে ভেতরের পরিবেশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছিল বলেও জানান তিনি।
পুলিশের দাবি, পার্টিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ব্যাংকারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার তরুণ-তরুণী উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ২৬ জন তরুণীকে পাওয়া যায়। তাদের অধিকাংশের বয়স ২০ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রীও সেখানে ছিলেন বলে জানায় ডিবি।
অভিযানকালে তিন বোতল মদ, ইয়াবা ও ‘কুশ’ নামের একটি মাদকদ্রব্য উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ। এ ছাড়া যৌনস্বাস্থ্য-সংশ্লিষ্ট কিছু সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
পুলিশ সদস্যরা বাড়িতে প্রবেশের পর পার্টি বন্ধ হয়ে যায়। উপস্থিত ব্যক্তিরা বিভিন্ন কক্ষে চলে যান। ভবনটিতে মোট পাঁচটি কক্ষ ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিসি ইলিয়াস কবির বলেন, ‘এয়ারবিএনবি’ ও ‘ট্রাভেলা’ নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এসব আয়োজন করা হতো। অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা পার্টিতে যোগ দিতেন। প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২টি আয়োজনের তথ্য পাওয়া গেছে।
একেকটি আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি প্রায় ৬০০ টাকা নেওয়া হতো বলে জানান তিনি। এ ছাড়া বাড়ি ভাড়া বাবদও অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি পুলিশের।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে পুলিশ জানায়, ছেলেদের এক মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে তরুণীদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।