নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতায় ১৩টি ফুটসাল মাঠ নির্মাণের জন্য ৫২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, শিশু-কিশোর ও তরুণদের মোবাইল আসক্তি, মাদকাসক্তি, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং থেকে দূরে রাখতে সরকার খেলাধুলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। নারায়ণগঞ্জে সাভারের বিকেএসপির আদলে একটি ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ওসমানী স্টেডিয়াম উন্নয়নের কথাও জানান তিনি।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় বাগে জান্নাত পঞ্চায়েত পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাগে জান্নাত ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬’-এর ফাইনাল খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘বাংলাদেশে গত ১৫ বছর এরকম একটা নেশার জালে জড়িয়ে ফেলা হয়েছে যে মানুষ অন্ধকারাচ্ছন্নে নিমজ্জিত হয়েছে।’ তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর খেলাধুলার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বাগে জান্নাতের মাঠটি উন্নয়নের আশ্বাস দেন। মাঠে চাইনিজ গোলবার স্থাপন, চারপাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং পানি জমে থাকা রোধে ড্রেনেজ ব্যবস্থা করার কথা জানান তিনি। খেলোয়াড়দের মাঠে অবস্থানের জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জ খেলোয়াড় তৈরির উর্বর ভূমি। এখান থেকে সম্রাট হোসেন এমিলি, মোনেম মুন্না, আশরাফ উদ্দিন চুন্নু, সালাউদ্দিন ও গাউসের মতো খেলোয়াড় তৈরি হোক—এটাই প্রত্যাশা।
অনুষ্ঠানে বাগে জান্নাত পঞ্চায়েত পরিষদের সহসভাপতি ও টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ফারুক আহাম্মদ রিপনের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক ছিলেন পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি রোটারিয়ান মহিউদ্দিন মাহমুদ। বক্তব্য দেন পরিষদের সহসভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি ভবানী শংকর রায়।
পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শরীফ সুমনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আইউব আলী, ইকবাল হোসেন, হাসানুর রহমান, সহসভাপতি সামছুল হক বাচ্চু, সহসাধারণ সম্পাদক কাজী সালাউদ্দিন টিপু, ক্রীড়া সম্পাদক ও টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মো. আসলাম মিয়া, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান, অর্থ সম্পাদক হাফেজ মোক্তার হোসেন, সহঅর্থ সম্পাদক কাজী মাহফুজুর রহমান সোয়েব, কার্যকরী সদস্য রহমত উল্লাহ লিটন, মুজাহিদুল কবির রুবেল ও আওলাদ হোসেনসহ অনেকে।
টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির সদস্যদের মধ্যে ছিলেন পঞ্চায়েতের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মেহেদী হাসান ডিউক, দপ্তর সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সোহাগ, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল সাকিব, প্রচার সম্পাদক ফয়সাল আবেদ হিমু ও ফাহিম আহাম্মেদ।
টুর্নামেন্টে মোট আটটি দল অংশ নেয়। ফাইনালে টাইব্রেকারে ১-০ গোলে হোয়াইট ইগলসকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ব্ল্যাক টাইগার্স। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন ইমাম, সেরা গোলকিপারের পুরস্কার পান সায়েম এবং সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জেতেন রাব্বি।
পরে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেন নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।