ভূমিহীন আশ্রয়ণ প্রকল্পে যেন ‘মরণ ফাঁদ’, নিরাপত্তাহীনতায় ১৫৬ পরিবার,ডিসি,ইউএনও,জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা আরাফাতের
যে স্বপ্ন ও আশা নিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে উঠেছিলেন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলো, সময়ের সঙ্গে সেই স্বপ্ন যেন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই মিললেও নিরাপদে ঘুমানোর নিশ্চয়তা মিলছে না। বহিরাগতদের আনাগোনা, মাদক, চুরি ও ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা এমনটাই জানিয়েছেন এ আশ্রায়ন প্রকল্পের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরাফাত হোসেন।
বিগত সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের যাচাই-বাছাই শেষে ১৫৬টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে চর সৈয়দপুর এলাকায় তিনটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর দেওয়া হয়। প্রকল্প তিনটি হলো—আহমদ আলীর ডগ প্রকল্প-১, চকমাঠ প্রকল্প-২ এবং গোলচক্করের পশ্চিম পাশে অবস্থিত প্রকল্প-৩।
এর মধ্যে আহমদ আলীর ডগ প্রকল্প-১-এ ৮০টি, চকমাঠ প্রকল্প-২-এ ২৮টি এবং প্রকল্প-৩-এ ৪৮টি পরিবার বসবাস করছে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্তমানে তাদের অন্যতম প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্যুতের তার চুরি, রাতের বেলায় মাদকাসক্ত ও অপরিচিত ব্যক্তিদের অবাধ আনাগোনা এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। বিভিন্ন এলাকার লোকজন এসে এখানে বসবাস করায় কোনো অনিয়ম বা অপরাধের প্রতিবাদ করতে গেলেই অনেক সময় হুমকি-ধমকি ও মারধরের শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
তাদের দাবি, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেলেও নিরাপত্তাহীনতার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় নারী, শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে।
এ অবস্থায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। প্রকল্প এলাকায় নিয়মিত টহল জোরদার, বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও চুরি-ছিনতাই বন্ধে ব্যবস্থা এবং বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সাধারণ মানুষের মতো শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের অসহায় পরিবারগুলো।
আকুল আবেদন—
জেলা প্রশাসক, নারায়ণগঞ্জ
প্রশাসক, জেলা পরিষদ, নারায়ণগঞ্জ
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা