ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে ১৮ জনের মৃত্যু হলো। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৫৫ জন ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে চিকিৎসাধীন মোট ১৩১ জন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের চিকিৎসক মো. সেলিম উদ্দিন।
মারা যাওয়া দুজন হলেন—ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার নুর হোসেনের স্ত্রী রাশিদা খাতুন (৪২) ও গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার জইনা বাজার এলাকার মৃত আব্দুল হোসেনের ছেলে জাফর আলী (৭০)।
চিকিৎসক মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে হাসপাতালে ভর্তি হন রাশিদা খাতুন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মারা যান।
এছাড়া ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে রোববার দুপুর ১টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি হন জাফর আলী। সোমবার ভোর সাড়ে চারটায় জটিল ডেঙ্গু সিনড্রোমের সঙ্গে তীব্র শ্বাসকষ্টজনিত সিনড্রোম, রক্তে মারাত্মক সংক্রমণ, সংক্রমণজনিত শক এবং ছড়িয়ে পড়া রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যায় মারা যান তিনি।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মুহাম্মদ মাঈন উদ্দিন খান বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে ভর্তি ১৩১ জনের মধ্যে পুরুষ ৮৩ জন, নারী ৪২ জন ও শিশু রয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে এক নারী আইসিইউতে ও এক পুরুষ সিসিইউতে ভর্তি আছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ৫৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে ছুটি দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ২ হাজার ১৭৮ জন ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মোট ২ হাজার ৯৪৮ জন ভর্তি হয়েছিলেন।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, সিটি করপোরেশনের মশা নিধন কার্যক্রম চলছে। নাগরিকদের সচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। বাড়ির ছাদ, টব, ফুলের পাত্র বা আশপাশে কোথাও যেন তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, তা নগরবাসীকেও নিশ্চিত করতে হবে।