বিএনপি নেতার সঙ্গে জমি বিরোধ নিয়ে মুখ খুললেন গণঅধিকারের মহানগর সভাপতি
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়িতে ৬০ শতাংশ জমি নিয়ে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে বিরোধের ঘটনায় মুখ খুলেছেন গণঅধিকার পরিষদের নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আরিফ ভূঁইয়া।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে জালকুড়ি দশপাইপ এলাকায় নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জমি নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দেন আরিফ ভূঁইয়া। এ সময় তিনি চার ভাইয়ের নামে আরএস রেকর্ড থাকা সম্পত্তি কীভাবে তাঁদের একজনের নামে পুরো ৬০ শতাংশ নামজারি হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
আরিফ ভূঁইয়ার দাবি, ওই জমির আরএস রেকর্ড চার ভাইয়ের নামে রয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিন ভাইয়ের কাছ থেকে ৪৫ শতাংশ জমি বায়না করে তাঁরা নামজারি ও ভোগদখলে ছিলেন। ২০২৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ৪৫ শতাংশ জমির মূল্য ৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা নির্ধারণ করে বায়না করা হয়। পরে ২০২৫ সালে ওই জমি তাঁদের নামে নামজারি হয়।
তবে পরবর্তীতে খাজনা দিতে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, তাঁদের নামজারির বিরুদ্ধে আপত্তি দেওয়া হয়েছে এবং নামজারি কর্তন করা হয়েছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, আরএস রেকর্ডের মালিক চার ভাইয়ের একজনের নামে পুরো ৬০ শতাংশ জমি নামজারি করা হয়েছে।
এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে আরিফ ভূঁইয়া বলেন, ‘চার ভাইয়ের নামে আরএস রেকর্ড থাকা সম্পত্তি একজনের নামে কীভাবে ৬০ শতাংশ নামজারি হলো? এসিল্যান্ড কীভাবে চার ভাইয়ের একজনের নামে পুরো ৬০ শতাংশ জমি নামজারি দিলেন?’
তিনি জানান, নামজারি বাতিলের পর তাঁরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বরাবর আপিল করেছেন। তদন্তের জন্য ৩ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে যাওয়ার দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
আরিফ ভূঁইয়ার দাবি, জমির বায়নাপত্র, অঙ্গীকারনামা ও যৌথ মালিকানা চুক্তিপত্র তাঁদের কাছে রয়েছে। এসব নথিতে জাকির হোসেনের নাম রয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ৪৫ শতাংশ জমির অংশীদার হিসেবে জাকির হোসেনের নাম থাকলে পরবর্তীতে একই সম্পত্তির ৬০ শতাংশ কীভাবে একজনের কাছ থেকে নেওয়া হলো। এ ঘটনায় জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগও করেন তিনি।
বিরোধের সমাধানে প্রতিপক্ষকে তাঁদের অংশ হিসেবে ১৫ শতাংশ জমি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান আরিফ ভূঁইয়া। তাঁর ভাষ্য, চার ভাইয়ের তিনজনের কাছ থেকে ৪৫ শতাংশ এবং অপর একজনের কাছ থেকে ১৫ শতাংশ নিলে উভয় পক্ষের অংশ বজায় রেখে বিরোধের সমাধান সম্ভব। তবে এ নিয়ে আলোচনার সময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলেও দাবি করেন তিনি।
এর আগে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মোহাম্মদ আলী দাবি করেন, তাঁরা ছয়জন মিলে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা মূল্যে রেজিস্ট্রি বায়নামূলে জমিটি কিনে ভোগদখলে ছিলেন। সম্প্রতি আরিফ ভূঁইয়াসহ ১০ থেকে ১২ জন ওই জমিতে সাইনবোর্ড লাগাতে গেলে তাঁরা বাধা দেন। এ সময় লাঠিসোঁটা, দা, ছুরি, লোহার রড ও হাতুড়ি নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হামলায় মোহাম্মদ নবীর হোসেন, শফিকুল ইসলাম ও রাজা মিয়া আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, জমিতে গেলে ২ কোটি টাকা না দিলে তাঁদের লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আরিফ ভূঁইয়া বলেন, জমি নিয়ে চলমান বিরোধের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়কে যুক্ত করে একটি ‘কুচক্রী মহল’ তাঁকে হেয় করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই একটা সমাধান হোক।’ আলোচনার মাধ্যমে জমির অংশ অনুযায়ী বিরোধ নিষ্পত্তি করে যে যার অংশ বুঝে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।