নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য কমানো, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট নিরসন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে ৫ সেপ্টেম্বর লং মার্চ সফল করতে গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সিদ্ধিরগঞ্জ থানা।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকালে নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোডে এ সমাবেশ করেন তারা।
আয়োজিত এ কর্মসূচিতে থানা জামায়াতে আমীর কফিল আহমাদের সভাপতিত্বে ও মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ জামাল হোসাইনের উপস্থিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরী আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন।
মাওলানা আবদুল জব্বার বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের মানুষ একটি সাম্য ও মানবিক বাংলাদেশের প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু সরকার জুলাই সনদের অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের কথা বলেও শেষ পর্যন্ত জাতির সাথে প্রতারণা করেছে।
বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজার সিন্ডিকেটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা না করে সরকার ফ্যাসিবাদী কায়দায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "যেখানে সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ বিল আসত ৮০০ টাকা, তা কোনো যুক্তিতে ২৮০০ টাকা হয়?"
তিনি আরো বলেন, জনগণের অর্থ কর্তন করে ফ্যামিলি কার্ডের মতো কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষ চায়নি। জনগণ চেয়েছে তাদের ন্যূনতম নাগরিক মর্যাদা, ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে দ্রব্যমূল্য এবং উন্নত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি।
সিটি কর্পোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পদে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে দলীয় লোক নিয়োগ ও দল ভারী করার অপচেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।
জব্বার আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশবাসী নতুন রাজনীতির আশা করেছিল। জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোট সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে গণতান্ত্রিক চর্চা বজায় রাখতে চায়, তবে অন্যায় ও দলীয়করণের প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবে।
গণমিছিলটি চিটাগাং রোডের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং ১১ দলীয় জোটের পরবর্তী কর্মসূচি ও লং মার্চ সফল করার আহ্বান জানিয়ে শেষ হয়।