গ্যাস সংকটে নারায়ণগঞ্জের হোটেল-রেস্তোরাঁয় বাড়ছে ভিড়
নারায়ণগঞ্জজুড়ে চলমান গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় খাবার হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোতেও। কয়েকদিন ধরে বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ কম থাকায় রান্না করতে না পেরে নগরীর সাধারণ মানুষ, নিম্নআয়ের শ্রমিক ও কর্মজীবীরা খাবারের জন্য ছুটছেন হোটেল-রেস্তোরাঁয়। এতে সকাল ও দুপুরের খাবারের সময়ে এসব প্রতিষ্ঠানে বাড়ছে ভিড়।
বুধবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে ফতুল্লার কাশিপুর ইউনিয়নের হাটখোলা এলাকার একটি স্থানীয় খাবার হোটেলে গিয়ে দেখা যায়, খাবারের থালা সাজানো থাকলেও ক্রেতাদের ভিড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কর্মীরা। স্বাভাবিক দিনের তুলনায় সেখানে দুপুরের খাবারের জন্য বেশি মানুষ ভিড় করেছেন। অনেকেই হোটেলে বসে খাবার খাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ পরিবারের জন্য খাবার পার্সেল করে নিয়ে যাচ্ছেন।
হাটখোলার একটি এমব্রয়ডারি কারখানায় কর্মরত শ্রমিক জসিম বলেন, “আমি সবসময় বাসা থেকে খাবার নিয়ে আসি। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে বাসায় গ্যাস না থাকায় বাধ্য হয়ে প্রতিদিনই হোটেলে এসে খেতে হচ্ছে। এতে বাড়তি খরচ হচ্ছে। আমার বেতনও বেশি নয়। সামান্য আয়ের মধ্য থেকে প্রতিদিন যদি গ্যাসের কারণে বাইরে খেতে হয়, তাহলে মাস শেষে বেতনের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু দুপুরের খাবার নয়, অনেক সময় সকালের নাস্তা ও রাতের খাবারও বাইরে থেকে কিনে নিয়ে যেতে হচ্ছে, যাতে বাচ্চারা খেতে পারে। এভাবে সংসার চালানো অনেক কষ্টের।”
একই হোটেলে পরিবারের জন্য খাবার পার্সেল নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, বাসাবাড়িতে গ্যাস না থাকায় তাঁর স্ত্রী রান্না করতে পারেননি। তাই বাধ্য হয়ে দুপুরে হোটেল থেকে পরিবারের জন্য খাবার কিনতে এসেছেন। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় প্রতিদিন এভাবে অতিরিক্ত টাকা খরচ হওয়ায় তিনি ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেন।
হাটখোলাসহ নারায়ণগঞ্জ নগরীর বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত ও আশপাশের ছোট-বড় খাবার হোটেলগুলোতেও দুপুরের দিকে অতিরিক্ত ক্রেতার চাপ দেখা যাচ্ছে। এতে হোটেল মালিক ও কর্মচারীদেরও বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে। অন্যদিকে গ্যাস সংকটের কারণে বাসায় রান্না করতে না পারায় সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ দুই-ই বাড়তি খরচ হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।