ফতুল্লায় ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার আসামি পলাশ গ্রেপ্তার
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার অন্যতম আসামি পারুল হোসেন পলাশকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি শ্রমিক লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, পলাশ একাধিক হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাতে ফতুল্লার দক্ষিণ সেহাচর লালখা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পারুল হোসেন পলাশকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতা হত্যার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।
গ্রেপ্তার পারুল হোসেন পলাশ ফতুল্লার সেহাচর লালখা এলাকার শুক্কুর মুন্সির ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পলাশ কখনো শাহ-নিজামের অনুসারী, আবার কখনো শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশের অনুসারী হিসেবে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, পলাশের ছেলে রাকিবের বিরুদ্ধেও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতা হত্যার ঘটনায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাকিব নিজেকে আলোচিত সন্ত্রাসী আজমেরী ওসমানের কথিত ক্যাডার নাসিরের সহযোগী হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন। তার বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাং পরিচালনা, মাদক ব্যবসা, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রাকিবের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এছাড়া পলাশের ভাই কালামের বিরুদ্ধেও ছাত্র-জনতা হত্যার ঘটনায় মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এসব মামলায় এখন পর্যন্ত পলাশ গ্রেপ্তার হলেও তার ছেলে রাকিব ও ভাই কালাম গ্রেপ্তার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাকিব রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে স্থানীয় বিএনপির একটি বলয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন। এরপর ওই রাজনৈতিক বলয়ের নাম ব্যবহার করে এলাকায় কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার পলাশের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম বলেন, ‘মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।