জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) চিকিৎসা কেন্দ্রে (মেডিকেল সেন্টার) ওষুধের মজুদে গরমিলের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মেডিকেল সেন্টারের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টোর) মো. নুর-এ-কামালকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমানের স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী দক্ষতা ও শৃঙ্খলা অধ্যাদেশের ধারা ৫(ক)(১) অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ওষুধের মজুদে গরমিলের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দায় নির্ধারণ করবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারারকে এই তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন—মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সালেকুল ইসলাম এবং দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবদুছ ছাত্তার। সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন রেজিস্ট্রার অফিসের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (কাউন্সিল শাখা) আলাউদ্দিন মোল্লা। কমিটিকে আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অপর এক অফিস আদেশে জানানো হয়, তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে এবং চিকিৎসা কেন্দ্র উপদেষ্টা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বরখাস্তের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কর্মচারী দক্ষতা ও শৃঙ্খলা অধ্যাদেশের ধারা ১০(ক)(২) অনুযায়ী ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. নুর-এ-কামালকে ২৩ জুলাই পূর্বাহ্ন থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ বা জীবিকা নির্বাহ ভাতা হিসেবে সর্বশেষ মূল বেতনের অর্ধেকসহ প্রযোজ্য অন্যান্য ভাতা প্রাপ্ত হবেন।
উল্লেখ্য, গত ৩০ জুন থেকে ২১ জুলাইয়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ১৯ হাজার ৫৬৭টি ওষুধের হিসাবে বিপুল গরমিল ধরা পড়ে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৩ হাজার ১১০ টাকা।