সেজান জুস ট্র্যাজেডির ৫ বছর: বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন
রূপগঞ্জে হাসেম ফুডস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠান সেজান জুস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে দায়ীদের শাস্তি ও নিহত-আহত শ্রমিকদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেল ৫টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লবের সভাপতিত্বে এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সোহাগের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ, সহ-সভাপতি হাসনাত কবীর, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সোহেল এবং রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্ট, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এস এম কাদির।
বক্তারা বলেন, সেজান জুস কারখানার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫২ জন শ্রমিকের মৃত্যুর পাঁচ বছর পার হলেও এখনো দায়ীদের বিচার হয়নি। বরং মামলার চার্জশিট থেকে কারখানার মালিক ও তাঁর চার ছেলের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, মালিকপক্ষের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনা কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি একটি হত্যাকাণ্ড। তাই মামলার পুনঃতদন্ত করে মালিকসহ সব দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে শ্রমিক কল্যাণ তহবিল থেকে দুই লাখ টাকা করে দেওয়া হলেও তা ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নয়। তাঁরা তাজরীন ফ্যাশন, রানা প্লাজা ও সেজান জুস কারখানার মতো ঘটনাগুলোকে মালিকদের চরম গাফিলতির ফল বলে উল্লেখ করেন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার দায়িত্বে অবহেলাকারী কর্মকর্তাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
নেতৃবৃন্দ নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার কনভেনশন-১২১ অনুযায়ী আজীবন আয়ের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ এবং আহত শ্রমিকদেরও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে শুধু তৈরি পোশাক শিল্প নয়, দেশের সব খাতে ‘এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম (ইআইএস)’ চালুর পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইএলও কনভেনশন-১৫৫ ও ১৮৭-এ বাংলাদেশের দ্রুত অনুস্বাক্ষরের আহ্বান জানান।
বক্তারা আরও জানান, সেজান জুস কারখানার অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিংস কমিটির ১৭ দফা পর্যবেক্ষণ ও ১২ দফা সুপারিশ জেলা প্রশাসক ও শ্রম প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে জমা দেওয়া হলেও তা এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি।