নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতাকে হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল নয়টার দিকে বন্দরের মদনপুর এলাকায় মহসড়কটি অবরোধ করেন তারা। এতে মহসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার যানজট দেখা দিয়েছে বলে জানান কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম শেখ।
তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তারা সড়কে টায়ার ও বাঁশ-কাঠ পুড়িয়ে অবরোধ করে রেখেছে। পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন তাদের নিবৃত করার চেষ্টা করছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় হামলার শিকার হন ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা বুলবুল আহমেদ খুন হন। ৩৫ বছর বয়সী বুলবুল পাশের শাহী মসজিদ এলাকার রাজা মাস্টারের ছেলে।
বন্দরের এ অংশটি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন। বুলবুল ইসলামী যুব আন্দোলনের বন্দর থানা (পশ্চিম) শাখার যুগ্ম সম্পাদক বলে জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মুফতি মাছুম বিল্লাহ।
তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বুলবুলের গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পরে মামলা করেন বুলবুল। মামলায় স্থানীয় 'কিশোর গ্যাং লিডার' শেখ সিফাত ও তার বাহিনীর সদস্যদের আসামি করা হয়। এই মামলার জেরেই সালেহনগর এলাকায় সিফাত ও তার বাহিনীর সদস্যরা বুলবুলের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন মাছুম বিল্লাহ।
এদিকে, এ হত্যাকাণ্ডের জন্য অভিযুক্ত সিফাত ও তার বাহিনীর সদস্যদের গ্রেপ্তার না করা হলে মহাসড়কের অবরোধ তুলবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা।
সকাল সাড়ে ১০টায় বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন এক খুদেবার্তায় সাংবাদিকদের জানান, শেখ সিফাতসহ নয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।
দেড় ঘন্টারও বেশি সময় অবরোধের পর বেলা পৌনে এগারোটার দিকে তারা অবরোধ তুলে নেন বলে জানান কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি শামীম শেখ।