পবিত্র কোরআনে মোট ১১৪টি সুরা রয়েছে। এর মধ্যে সুরা তওবা ছাড়া বাকি ১১৩টি সুরার শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রহিম’ আছে। শুধু সুরা তওবার শুরুতে বিসমিল্লাহ নেই।
সুরা তওবা পবিত্র কোরআনের নবম সুরা। এর আয়াত সংখ্যা ১২৯টি। এটি মদিনায় অবতীর্ণ। তওবা অর্থ ক্ষমা। এতে মুসলমানদের তওবা কবুলের বর্ণনা থাকায় একে সুরা তওবা বলা হয়। এ সুরাকে বারাআতও বলা হয়, এ সুরায় কাফেরদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ ও দায়িত্ব মুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
কোরআনের প্রতিটি সুরার শুরুতে বিসমিল্লাহ লেখা থাকলেও সুরা তওবার শুরুতে বিসমিল্লাহ নেই। তাফসিরের কিতাবে এখানে বিসমিল্লাহ না লেখার কয়েকটি কারণ পাওয়া যায়।
১. হজরত মুহাম্মদ (সা.) ৪০ বছরে নবুওয়াত পেয়েছেন বা নবী হয়েছেন। দীর্ঘ ২৩ বছরের জীবনে অল্প অল্প করে তাঁর ওপর কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। কখনও কোরআনের এক আয়াত, কখনও দুই আয়াত বা তার বেশি কিংবা কখনো পুরো সুরা নাজিল হয়েছে। ওহি আসার পর কোন সুরা কোথায় স্থান পাবে তা নবী (সা.) বলে দিতেন, ওহি লেখকরা তা সেভাবেই লিখে দিতেন। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.) এই সুরার আগে বিসমিল্লাহ লেখার নির্দেশ দেননি। এ অবস্থায় তাঁর ইন্তেকাল হয়। ইসলামের তৃতীয় খলিফা হজরত উসমান (রা.)-এর আমলে নতুনভাবে কোরআন সংকলন করার সময়ও এই সুরার শুরুতে বিসমিল্লাহ লেখা হয়নি।
২. হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) আলি (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, বিসমিল্লাহর মধ্যে শান্তি ও নিরাপত্তার বার্তা আছে। কিন্তু সুরা তওবায় চুক্তিভঙ্গকারী কাফেরদের জন্য শাস্তি ও নিরাপত্তা নাকচ করা হয়েছে। তাই এই সুরার শুরুতে বিসমিল্লাহ লেখা হয়নি। (তাফসিরে কাবির)
৩. জাহেলি যুগে আরবা চুক্তিভঙ্গের ঘোষণাপত্রে বিসমিল্লাহ লিখত না। তাই এখানেও তাদের সঙ্গে একই নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে।
সুরা তওবার শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়ার বিধান
ইসলাম বিশেষজ্ঞরা বলেন, যে ব্যক্তি সুরা আনফালের তেলাওয়াত সমাপ্ত করে সুরা তওবা শুরু করে, সে বিসমিল্লাহ পাঠ করবে না। কিন্তু যে প্রথমেই সুরা তওবা থেকে তেলাওয়াত শুরু করে কিংবা এর মাঝখান থেকে শুরু করে, তাকে বিসমিল্লাহ পাঠ করতে হবে। কেউ কেউ মনে করেন, সুরা তওবা পাঠের সময় কোনো অবস্থাতেই বিসমিল্লাহ পাঠ করা যায় না- তাদের এ ধারণা সঠিক নয়।
বিপদে পড়লে কি গরু, ছাগল ও টাকা মানত করা যাবে
আল্লামা উসাইমিন (রহ.) বলেন, দুটি সুরাকে মিলিয়ে একটি সুরা হিসেবে লেখা হয়নি এ কারণে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) সুরা তওবার শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রহিম’ লেখার নির্দেশ না দেওয়ায় সাহাবিরা সন্দিহান হয়ে পড়েছিলেন, আনফাল ও তওবা কি একই সুরা না কি আলাদা সুরা। তাই তারা সিদ্ধান্ত নিলেন, দুটি সুরার মাঝে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে লেখা হবে কিন্তু মাঝখানে বিসমিল্লাহ লেখা হবে না